চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগির জেরে খুন হন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কিশোর মো. বেলাল(১৩)। কুপিয়ে খুন করে কিশোরের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। তারপর পরিচয় গোপন করতে বিচ্ছিন্ন মাথা থেকে চুল কেটে ফেলা হয়। পরে খন্ড খন্ড লাশটি পাহাড়ের চূড়ায় উলঙ্গ করে মাটি চাপা দিয়ে গুম করে ফেলা হয়। কিশোর বেলালকে এভাবেই নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ঘটনার চার বছর পর খুনের রহস্য উদঘাটন করে সিআইডি। গতকাল সোমবার সিআইডি ইন্সপেক্টর মোশারফ হোছাইন এসব তথ্য জানান। খুনের ঘটনার মূলহোতা সন্ত্রাসী হাসান ওরফে সোনাইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি চট্টগ্রামের পরিদর্শক মোশারফ হোছাইন বলেন, ভিকটিম বেলালের প্রতিবেশী ও বন্ধু অটোরিক্সা চালক পারভেজের মাধ্যমে মাদক পরিবহনের কাজ করতেন। লভ্যাংশের অংশ না পেয়ে পারভেজ ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী হাসান ওরফে সোনাইয়ার সাথে মিলে বেলালকে হত্যার পরিকল্পনা করে। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডির হাতে আসে। তদন্তভার নিয়ে প্রথমে মো. পারভেজ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করি। পরে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে খুন করা হাসান ওরফে সোনাইয়াকে গ্রেপ্তার করি। তারপরই খুনের লোমহর্ষক কাহিনীর রহস্য উন্মোচিত হয়।
গত ৭ মে চট্টগ্রামে সাতকানিয়া থানার বাজালিয়া বাজার থেকে আসামি পারভেজকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে ৮ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় পারভেজ। সেখানে উল্লেখ করেন, ‘বেলালকে অপহরণ করে সাঙ্গু কলেজ মাঠের আড়াষ্যা(লম্বাপানি) নামক এলাকায় নিয়ে যায়। তাকে লম্বা পানি ব্রিজে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তারপর হাসান কুপিয়ে বেলালের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরিচয় গোপন করতে চুল কেটে ফেলা হয়। পরে পাহাড়ের চূড়ায় লাশটি উলঙ্গ অবস্থায় মাটি চাপা দিয়ে গুম করা হয়। এ নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়ি অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেস্টা চলছে।
সিআইডি জানায়, ২০২২ সালের ১৭ জুলাই পুরানগড় সাঙ্গু কলেজের মাঠে বন্ধুদের সাথে লুডু খেলার সময় মো. হাসান ওরফে সোনাইয়ার নেতৃত্বে ভিকটিম বেলালকে অপহরণ করা হয়। তার পর নিখোঁজ ছিল সে। ১৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর ওই বছরের ৪ আগস্ট কিশোর(১৩) বেলালের গলিত মরহেদ উদ্ধার করা হয় পাহাড় থেকে। পুরানগড়ের একটি পাহাড়ী টিলায় মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় শেয়াল মাটি থেকে লাশ টেনে বওে করলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। দেহ গলে হাড় ও মাথার খুলি বের হয়ে যায়। দীর্ঘদিন তদন্ত করলেও সাতকানিয়া থানা পুলিশ মামলার তদন্তের অগ্রগতি আনতে না পারায় ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর আদালত সিআইডিকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডি তদন্তে নেমে মামলার রহস্য উন্মোচন করলো।
Leave a Reply